'ফুল মুনলাইট টি' এবার তৈরি হচ্ছে সমতলের ডুয়ার্সে - The News Lion

'ফুল মুনলাইট টি' এবার তৈরি হচ্ছে সমতলের ডুয়ার্সে

 


 দি নিউজ লায়ন;    'ফুল মুনলাইট টি' এবার  তৈরি হচ্ছে সমতলের ডুয়ার্সে। সৌজন্যে আলিপুরদুয়ার শহর লাগোয়া মাঝের ডাবরি চা বাগান কতৃপক্ষ। সোমবার পূর্ণিমার পূণ্য তিথিতে পূর্ণিমার আলোয় চা পাতা তোলার কাজ করলো মাঝের ডাবরি চা বাগান কর্তৃপক্ষ। এ দিন সন্ধ্যার পর থেকে মাঝের ডাবরি চা বাগানে পাতা তোলা হয়। এর আগে পাহাড় ও তরাইয়ের বিভিন্ন চা বাগানে ফুল মুনলাইট টি তৈরি হয়েছে। এবার সমতলের ডুয়ার্সেও এই চা তৈরি চালু হয়ে গেল। 


সম্ভবত ডুয়ার্সে এই প্রথম কোন চা বাগান  এই চা তৈরি করা শুরু করল। জানা গিয়েছে সূর্যাস্তের পর পূর্ণিমার দিন চাঁদের আলোয় চা গাছের পাতা থেকে চায়ের বিশেষ সুগন্ধ তৈরি হয়, যা ওই চা পাতার মধ্যেই থেকে যায়। আর সেই কারণে পূর্ণিমার দিন চাদের আলোতে চা গাছ থেকে ছিঁড়ে আনা দুটি পাতা একটি কুঁড়ি থেকে তৈরি চা খেতে যেমন সুস্বাদু তেমনি গন্ধেও অতুলনীয়। বিশ্ববাজারে এই চায়ের দাম প্রচুর। এবার এই চা তৈরি উৎপাদন শুরু করল আলিপুরদুয়ার শহর লাগোয়া মাঝের ডাবরি চা বাগান কর্তৃপক্ষ। মাঝের ডাবরি চা বাগানের ম্যানেজার  চিন্ময় ধর বলেন, "পাহাড়  ও তরাইয়ে বিভিন্ন চা বাগান কর্তৃপক্ষ ফুল মুনলাইট টি তৈরি করে। 


বিশ্ব বাজারে এই চায়ের ব্যাপক চাহিদা। আমরাও সোমবার এই চা তৈরীর জন্য চাঁদের আলোয় পূর্ণিমার পূণ্য তিথিতে চা পাতা তোলার কাজ করেছি। দুই-তিনদিনের মধ্যেই এই চা পাতা থেকে তৈরি চা আমরা বাজারে আনব। স্থানীয় বাজারেও এই চা বিক্রির পরিকল্পনা আছে আমাদের। অবশ্যই বিশ্ববাজারে এই চা আমরা বিক্রি করব। আমরা এই প্রথম এই উদ্যোগ নিলাম। আশা করি সফল হব। সকলের সহযোগিতা কামনা করি। "এদিন মাঝের ডাবরি চা-বাগানের বিভিন্ন ডিভিশনে চা শ্রমিকরা পাতা তোলার কাজ করেন। 


যেখানে আলোর প্রয়োজন ছিল সেখানে মশাল জ্বেলে চা পাতা তোলার কাজ করা হয়। চা শ্রমিক নিশিতা ওরাও বলেন, "সাধারনত আমরা দিনের বেলাতেই চাপাতা তুলতে অভ্যস্থ। জীবনে প্রথম এবার রাতে পুর্নিমার আলো আধারে চা-পাতা তুললাম। তবে এদিন চাঁদের ঝলমলে আলোয় চাপাতা তুলতে কোন অসুবিধা হয় নি। শুনেছি এই চা পাতা থেকে তৈরি চায়ের গুণমান অনেক বেশি হয়। খুব ভালো কথা। আমাদের তোলা চা পাতা থেকে ভালো চা তৈরি হলে আমাদেরও ভালো লাগবে।" উল্লেখ্য আলিপুরদুয়ার শহর লাগোয়া মাঝের ডাবরি চা বাগান কর্তৃপক্ষ বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন দিক দিয়ে চা শিল্পে পথ দেখিয়েছে।


 এর আগে ক্যাশলেস লেনদেনের ক্ষেত্রে এই চা বাগান উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করেছিল। একইভাবে করোনা অতি মারীর লক ডাউনের  সময় দূরত্ব বজায় রেখে চা শ্রমিকদের কাজে লাগানো থেকে শুরু করে বিভিন্ন সময় চা শ্রমিকদের নানান প্রশিক্ষণ সংক্রান্ত এবং চা বাগান কে পর্যটনের কাজে লাগাতে এই চা বাগান বিভিন্ন সময় বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। এমনকি এই চা বাগান কর্তৃপক্ষ আলিপুরদুয়ার শহরে জন্য সলিড ওয়েস্ট ম্যানেজমেন্ট প্রকল্পের জন্য জমি দান করে ইতিহাস তৈরি করেছিল। এবার সেই মাঝের ডাবরি চা বাগান আবারও ফুল মুন লাইট টি তৈরি করে নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করল।

কোন মন্তব্য নেই

Thankyou To Comment us

Blogger দ্বারা পরিচালিত.